invisible hit counter
Monday, September 26, 2022
HomeUncategorizedনৈবেদ্য বই বাংলা রিভিউ

নৈবেদ্য বই বাংলা রিভিউ

আতিক ভাই লােকটাকে দেখলে অদ্ভুর হিংসে হয় । সবসময় মুখে হাসে লেগেই থাকে। কখনাে ওনার মন খারাপ দেখেনি অন্তু। গত দুই বছর থেকে দেখছে একই রকম। প্রাণবন্ত, উচ্ছল । টি ব্রেকে আতিক ভাইকে কথাটা বলেই ফেলল, ভাই! আপনাকে আমার খুবই ভালাে লাগে ।

রহস্য কি, বলবেন! কীভাবে এত প্রাণােচ্ছল, নির্ভেজাল থাকা যায় ? সিগারেট টানতে টানতে আতিক ভাই বললেন, জীবনকে উপভােগ করতে জানতে হয়, তাহলে আর দুর্দশা, ভেজাল বলে কিছু জীবনকে স্পর্শ করতে পারে না।

অফিস ছুটির পর আমার সাথে চইলাে মিয়া, তােমারে এক জায়গায় নিয়া যাবাে ঘুরতে । সারাদিন আর কিছুতেই কাজে মন বসল না অস্তুর। কোথাও যাওয়ার কথা শুনলে তার আনন্দের বেগ বাড়ে, মন উচাটন হয়ে থাকে। সে জায়গায় পৌছা অব্দি উসখুস করতে থাকে।

ছেলেবেলার অভ্যেসটা রয়ে গেছে। এখনাে। অন্তু কিছুতেই আতিক ভাইয়ের কথা বিশ্বাস করে না। কারণ এরকম তিনি আগেও অনেকের সাথে করেছেন, পরে অফিস শেষে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। পুরাে অফিসজুড়ে আতিক ভাইকে নিয়ে কানা-ঘুষা চলে।

কেউ বলে তিনি বিবাহিত, কারাে কাছে অবিবাহিত, কারাে মতে ওনার খালাতাে বােনের সাথে ওনার প্রেমঘটিত সম্পর্ক আছে। ব্যাপারটি উনি শুনলেও এড়িয়ে চলেন, ইচ্ছে করেই রহস্য জমিয়ে রেখেছেন তিনি! কারাে সাথেই কোনাে কিছু শেয়ার করেন না। আতিক ভাই আজ ব্যতিক্রম কিছু করল, অন্তুকে নিয়ে ঘুরতে বের হলাে।

রিকশায় উঠে অন্তুকে বলল, আমি জানি, আমাকে নিয়ে সকলের আগ্রহ বেশি। এর কারণ হচ্ছে, আমার কোনাে তথ্য আমি কারাে সাথে শেয়ার করি না, আর অজানা জিনিষ জানতে মানুষের আগ্রহ বেশি কিন্তু পরচর্চা ব্যাপারটা আমার একদম অপছন্দ।

কে কী বলল, কে কী ভাবল এতে আমার কিছু যায়-আসে । অন্তু কোন কথা বলছে না, চুপচাপ শুনছে, পরিস্থিতি বােঝার চেষ্টা করছে। অন্তু তােমাকে আমার খালার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি, সমস্যা নেই তাে! তোমার ততা ঢাকায় আপন বলতে কেউ নেই, মন খারাপ হলে মাঝে মাঝে গিয়ে ঘুরে এসাে।

অন্তু কৃতজ্ঞতার চোখে তাকাল, একই সাথে বিস্মিত হলাে, আতিক ভাই কীভাবে তার সম্পর্কে এত কিছু জানে! তার পারিবারিক ব্যাপারে আতিক ভাইয়ের সাথে কখনাে আলাপ হয়নি তাে! রিকশা এসে থামল, হাতিরপুলে একটি গগনচুস্বী ফ্ল্যাট-বাড়ির সামনে। অফিসের খুব কাছে হওয়াতেই আতিক ভাই ঘন ঘন এসে থাকবে।

গেটে দারােয়ান বসা। আতিক ভাইয়ের সাথে চোখাচোখি হলাে, ইশারায় ভাব আদান-প্রদান হলাে । লিফটের এগারাে চেপে বারােতলায় উঠে এলাে ওরা । চল্লিশাের্ধ্ব এক বয়স্ক মহিলা দরজা খুলে দিলেন। আতিক ভাই খালা বলেই জড়িয়ে ধরলেন।

খালা তাদেরকে ভিতরে অভ্যর্থনা জানালেন। হুড়মুড় করে তিন- চারটি মেয়ে দৌড়ে পেছনের রুমে চলে গেল । অন্তুকে প্রথম দেখে। আতিক ভাইয়ের খালাতাে বােনেরা লজ্জা পেল মনে হয়। অন্তুও কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে বসল সােফায় । অন্তুর কাছে খালাকে বসিয়ে রেখে আতিক ভাই বলল, একটু হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আসছি ।

তােমরা আলাপ করাে। খালা অস্তুর সাথে নানা গল্প জুড়ে দিল। বেশ মিশুক মনে হলাে ওনাকে। অল্প সময়ের আলাপেই মনে হতে লাগল অনেক দিনের চেনা। ভিতর থেকে পালাক্রমে ওনার মেয়েদের উকি দিয়ে দেখা থেমে নেই। অন্তুর লজ্জা লাগছে।

ওনার সবগুলাে মেয়েই অত্যধিক ছিমছাম গায়ের গড়ন, যে কারাে নজর কাড়ার মতাে। অন্তু তাে ফিদা হয়ে গেছে। আতিক ভাইয়ের প্রতি হিংসে আরাে বেড়ে গেল যেন। এরকম পুতুল চেহারার মেয়েদের ভাই হতে পারাও ভাগ্যের ব্যাপার। প্রতিটা মেয়েই দেখতে অনিন্দ্য রূপসী, একজনের সাথে আরেকজনের চেহারার মিল নেই।

আতিক ভাই সেই যে ফ্রেশ হতে ভিতরে গেল আর আসার কোনাে নাম নেই। ঘণ্টাখানেক সময় কোন দিক দিয়ে কেটে গেল বুঝল না অন্তু। খালাও কিছুক্ষণ আগে টিভি ছেড়ে দিয়ে ভিতরে গেল। একজন কম বয়সী তরুণী, উনিশ-বিশ হবে বােধ হয়, হাতে চা-বিস্কিট নিয়ে এলাে।

মেয়েটি চা দিতে এসে সহজ ভঙ্গিমায় সােফায় বসে গেছে। কোনাে জড়তা নেই। চোখ আর চুল দেখেই বােঝা যাচ্ছে ওকে কাঁচা ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়া হয়েছে। টিভিতে ভারতীয় সিরিয়াল চলছে, মেয়েটি সেদিকেই বেশি মনােযােগী হয়ে গেল ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Advertisment

Most Popular

Recent Comments