invisible hit counter
Monday, September 26, 2022
HomeUncategorizedশুদ্ধ বলুন নির্ভুল লিখুন বই বাংলা রিভিউ

শুদ্ধ বলুন নির্ভুল লিখুন বই বাংলা রিভিউ

জানার ও শেখার কোনও বয়স নেই। কথাটি কে, কবে বলেছিলেন তা আমার জানা নেই। তবে কথাটি নির্জলা সত্য। শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা বলা ও নির্ভুল বানানে বাংলা লেখার গুরুত্ব অপরিসীম। তবু আমরা এ ব্যাপারে বড়ই উদাসীন। ভাবলে অবাক লাগে, মাতৃভাষা রক্ষার জন্য যে জাতি জীবন দিয়েছে, সে জাতিই কিনা শুদ্ধ-প্রমিত উচ্চারণে সে-ই ভাষায় কথা বলতে কিংবা নির্ভুল বানানে লিখতে একটুও তাগিদ অনুভব করে না।

আর তাই তাে এ বিষয়ের ওপর যত বেশি গ্রন্থ প্রণীত হবে, শুদ্ধ ভাষা চর্চার পথ ততই বিস্তার লাভ করবে। শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা আর নির্ভুল বানানে লেখার পথ সুগম হবে। হাতের কাছে এ জাতীয় বই থাকলেই তাে মানুষ বেশি জানার সুযােগ পাবে। বললে অত্যুক্তি হবে না, প্রমিত উচ্চারণে মাতৃভাষা চর্চার জন্য এ জাতীয় গ্রন্থের প্রয়ােজনীয়তা ও গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

বাংলাভাষাভাষীর একটা বড় অংশ প্রতিনিয়ত কথােপকথনে কোনও-না- কোনওভাবে. ভুল করে থাকেন। কেউ ভুল করেন উচ্চারণে, কেউ-বা শব্দ প্রয়ােগে। আবার কেউবা ব্যাকরণগত ত্রুটিতে বাক্য নির্মাণ করেন। শুধু বাঙালিরাই নয়, মানুষমাত্রই ভুল করেন; ভুল হয়ে যায় নিজের অনবধানতা আর প্রয়ােগে। আবার কেউবা ব্যাকরণগত ত্রুটিতে বাক্য নির্মাণ করেন।

শুধু বাঙালিরাই নয়, মানুষমাত্রই ভুল করেন; ভুল হয়ে যায় নিজের অনবধানতা আর অজ্ঞানতা থেকেই। নিজের ভুলভ্রান্তি নিয়ে কী ভাবতেন আলবার্ট আইনস্টাইন? তাহলে শুনুন সে কথা, ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পড়াশােনা ও গবেষণার জন্য আপনার কী কী দরকার? আলবার্ট আইনস্টাইন বললেন, একটা ডেস্ক, কিছু কাগজ আর একটা পেন্সিল। সঙ্গে দরকার বড় একটা ডাস্টবিন, যেখানে আমার ভুল করা বা ভুল- ভরা সব কাগজগুলাে ফেলব।

‘তাই তাে বলি, মানুষমাত্রই ভুল করেন। ভুল হতেই পারে। তবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে মাতৃভাষা ব্যবহারে। বাংলা ভাষা ব্যবহারে প্রতিনিয়ত আমরা যে ভুল করি, যতদূর পারা যায় তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা আর নির্ভুল বানানে লেখার ইচ্ছে থাকতে হবে। আর এ জন্যে খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই, শুধু ভাষা ব্যবহারে একটু সচেতন হতে হবে।

লক্ষ্য রাখতে হবে, যা বলা হচ্ছে, তা শুদ্ধ প্রমিত উচ্চারণে বলা হচ্ছে কি না। পাশাপাশি লেখার সময় নির্ভুল বানানে লেখা হচ্ছে কি না। শ্রোতা-দর্শকে আকীর্ণ মিলনায়তনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে বলা হলে বেশির ভাগ মানুষই কথা না বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, নিজেকে গুটিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। এর প্রধান কারণ আত্মবিশ্বাসের অভাব। সবার মনেই একটি ভীতি কাজ করে, আমি কি শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে পারব?

নির্ভুল কথা বলতে পারব? আর এ ভীতি থেকেই মানুষ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চান। এ প্রসঙ্গে পাঠকের অবগতির জন্য একটি চমকপ্রদ তথ্য উপস্থাপন করা যাক।

২০১৪ খ্রিস্টাব্দে, ‘ডুগডুগি’ (কৃষ্টি ও শৈল্পিক প্রতিভা উৎকর্ষের প্রতীক) পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৩.২ শতাংশ মানুষ আঁধারে একা থাকতে ভয় পায়, ৪.৩ শতাংশ মানুষ জোঁক দেখে ভয় পায়, ৯.৪ শতাংশ মানুষ ভূত-পিশাচে ভয় পায়, ১২.৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করতে ভয় পায়, ২০.৪ শতাংশ মানুষ বিষধর সাপকে ভয় পায়। আর সর্বাধিক সংখ্যক অর্থাৎ ৫০.২ শতাংশ মানুষ মাইক্রোফোন হাতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মানুষের সামনে কথা বলতে ভয় পায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Advertisment

Most Popular

Recent Comments