invisible hit counter
Monday, September 26, 2022
HomeUncategorizedশ্রেষ্ঠ গল্প বই বাংলা রিভিউ

শ্রেষ্ঠ গল্প বই বাংলা রিভিউ

সেদিনও এমনি একলাটি বসেছিলুম, পড়ার বইখানি কোলের উপর পড়েছিল, কিন্তু তার উপর চোখ পড়ছিল না। ভাবছিলুম আর একজনের কথা, আজ যেমন ভাবছি। মনে হচ্ছে, মিলনের পূর্বাহ্ন আর অপরাহ্ন দুইই সমান ব্যাকুলতায় ছলছল । টেলিফোনের ঘন্টা বেজে উঠল ।

সকালবেলা তার চিঠিও পাইনি, ফোনও শুনিনি। সকালের আলাে দুপুরে ঝিমিয়ে পড়েছে। কে জানে কার ফোন! গা তুললুম না। মিসেস ফিশার বুড়িকে তার কসাই কিংবা মুদি স্মরণ করছিল ভেবেছিলুম। কিন্তু বুড়ি ডেকে বললে, ‘মিস্টার চৌধুরী, তােমার সেই বন্ধুনী।

‘সেই বন্ধুনী’টির জন্যে মিস্টার চৌধুরীর কিছুমাত্র মাথাব্যথা ছিল না। কেন যে তিনি এ হতভাগ্যকে মাঝে মাঝে আপ্যায়ন করেন তিনিই জানেন। কস্তু পদে নম্র নেত্রপাতে ফোনের রিসিভার কানে তুলে নিলুম। কানটাকে ঝাঝিয়ে নিয়ে কে যে কথা বলে গেল, বুঝলুম। অর্থাৎ কে তা বুঝলুম, কী তা বুঝলুম না।

বাঁচা গেল যে, সেই বন্ধুনী’ নন। ইনি ফিস্ ফিস্ করে কথা বলেন না। ইনি কথা দিয়ে যেন কান মলে দেন। যাকে দেখবার জন্যে এত ব্যগ্র ছিলুম, সে যে কী বললে, তা শােনবার ধৈর্য ছিল না।

প্রতি প্রশ্নের উত্তরে একটা করে হ্যা দিয়ে গেলুম। বললুম, হ্যা, আজ বিকেলে তুমি যেখানে নিয়ে যাবে সেখানে যাব। গেলুম যখন তখন গায়ে ছিল অর্ধেকটা টেনিসের পােশাক, অর্ধেকটা মামুলি । আর হাতে একখানা ফ্রানসিস্ টমস। সাড়ে চারটের সময় অমুক জায়গায় দেখা করবার কথা।

অমুক জায়গায় পায়চারি করতে চারটের সময় অমুক জায়গায় দেখা করবার কথা। অমুক জায়গায় পায়চারি করতে লাগলুম। সে আর আসেই না। আশে-পাশের রাস্তাগুলােয় খানিকটে করে গিয়ে দেখতে লাগলুম, যদি তাকে দূর থেকে দেখতে পাই । মনে মনে বকুনির ভাষায় শান দিতে থাকলুম।

আধ মাইল দূর থেকে অবশেষে দেখা গেল কে একজন শুভূষণা আসছেন। এত জোরে জোরে পা ফেলছেন, যেন ধান ভানছেন, আর এত দূরে দূরে, যেন প্রতিবারেই লঙ্কা ডিঙোচ্ছেন। খানিকটে কাছে যখন এলেন তখন দেখি হাতে একটা বেতের ব্যাগ রয়েছে। এগিয়ে গিয়ে ছিনিয়ে নিলুম। বললুম, ‘কত দেরি করেছ, জানাে? সে একটা কৈফিয়ৎ দিলে। দু’জনে মিলে ট্রেনের অভিমুখে ছুটলুম।

পথে যেতে যেতে বললে, “তােমার সঙ্গে কিছুই আনননি কেন!’ আমি বললুম, এর বেশি কী আনতুম? সে বললে, “তােমাকে বােধ হয় অন্য একটা বাড়িতে রাত কাটাতে হবে। এক বাড়িতে দুটো ঘর পাওয়া যাবে না। আমি বললুম, ব্যাপার কী? রাত্রে ফিরে আসব মিসেস ফিশারকে বলে এসেছি যে। এ কেমন কথা? তখন না বললে আমার সঙ্গে সােমবার অবধি উইকেণ্ডে আসছ? ‘ঠিক শুনতে পাইনি বােধ হয় ।

ভেবেছিলুম তােমার সঙ্গে আলােচনা করে স্থির করব।’ ‘এখন- ‘এখন এই বেশেই যেতে রাজি আছি। কেবল একটা ফোন করে বুড়িকে বলে দিতে হবে আজ রাত্রি ফিরব না। সঙ্গে কিছুই যে নাওনি। অন্তত একটা টুথব্রাশও তাে দরকার। ‘তােমার টুথ পেস্টের খানিকটা দিয়ে। ‘এক বাড়িতে থাকলে তাে।

তার চেয়ে বরং রাস্তায় কিনে নিয়ে একটা। রাতের পােশাকের নাম মুখে আনলুম না। বললুম, একখানা ক্ষুর কিন্তু ভয়ানক দরকার কাল সকালে। বাড়ির কেউ ধার দেবে না? কিংবা কাছে কোথাও নাপিত পাব না? ‘পাগল! চাষার বাড়ি যাচ্ছ খেয়াল নেই। আর গ্রাম কিংবা শহর সেখানে কোথায়! ফার্ম হাউস। আমি বললুম, তবে দেখা যাক কী হয়।’ এই বলে ফ্রানসিস টমস’ খুলে বসলুম।

এতক্ষণে আমরা ট্রেনে উঠে বসেছি। বললুম, ‘বেশ মজা, না? কতকটা ইলােপমেন্টের মতাে লাগছে।’ সে বললে, দূর। ওয়াটারলু স্টেশনে মিসেস ফিশারকে ফোন করতে করতে ট্রেন ছেড়ে দিল । আগামী ট্রেনের জন্যে অপেক্ষা করবার ফাঁকে সে বললে, ‘টাকাও তাে আনােনি। নাও এই যা দিচ্ছি। কী কিনতে চাও কিনে ফেল। একখানা রাইটিং প্যাড কিনলুম । ফ্রানসিস টমসনের সাথী । ট্রেনের খালি কামরা দেখে উঠলুম। কখন একটি যুবক উঠে পড়েছে। অতএব মামুলি কথাবার্তা।

যুবকটি নেমে গেলে দুটি প্রৌঢ়া আরােহণ করলেন। তারা নামতে নামতেই জনকয়েক গ্রাম্য ভদ্রলােক। অবমেসে আমরাই চেঞ্জের জন্যে নামলুম । সে বললে, এবার কিছু ফ্রানসিস টমসন পড়ে শােনাও।

আমাদের ট্রেন এসে পড়ল। বই ও ব্যাগ নিয়ে আমরা যে কামরাটায় উঠলুম সেটাতে কে একজন বার্নার্ডশ’র মতাে টেরি ও দাড়িওয়ালা প্রবীণ বসেছিলেন। অন্যান্য লােক ভিড় করে ঢুকল। কিছুক্ষণ পরে সে বললে, “ওই দেখ বস্ হিল । পাহাড়টা চক খড়ির । যেখানে সেখানে ঘাস উঠে গেছে । চক দেখতে পাচ্ছ না?

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Advertisment

Most Popular

Recent Comments